if you want to remove an article from website contact us from top.

    আইয়ামে বীজের রোজা মার্চ ২০২৩

    Mohammed

    বন্ধুরা, কেউ কি উত্তর জানেন?

    এই সাইট থেকে আইয়ামে বীজের রোজা মার্চ ২০২৩ পান।

    আইয়ামে বীজের রোজা মার্চ ২০২৩ কবে, কত তারিখ, গুরুত্ব ও ফজিলত

    প্রতিটি মুসলমানের জন্য রমজান মাস ব্যতিত বিশেষ বিশেষ কিছু দিনে বা বিশেষ বিশেষ কিছু মাসে রোজা রাখার বিধান রয়েছে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী। আমরা অনেকেই সেই ... Read more

    আইয়ামে বীজের রোজা মার্চ ২০২৩ কবে, কত তারিখ, গুরুত্ব ও ফজিলত

    March 5, 2023 by আল্লামা জাহিদ হাসান

    প্রতিটি মুসলমানের জন্য রমজান মাস ব্যতিত বিশেষ বিশেষ কিছু দিনে বা বিশেষ বিশেষ কিছু মাসে রোজা রাখার বিধান রয়েছে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী। আমরা অনেকেই সেই রোজা সম্পর্কে জানি আবার অনেকে জানি না। আর এই বিশেষ রোজা গুলো হল নফল রোজা। আর সেই রোজা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোজা হল আইয়ামে বীজের রোজা‌। এই রোজা সাধারণত আরবি বার মাসের প্রতিটি মাসে রোজা রাখার কথা নির্দেশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তিকে আরবীর প্রতিটি মাসে, মাসের মধ্যবর্তী সময়ে যে কোন তিন দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখা যায়।

    আর কোন ব্যক্তি যদি আইয়ামে বীজের রোজা পালন করে থাকে তাহলে সে ব্যক্তি সেই মাসের সারা বছরের রোজা থাকার সোয়াব পাবে। তাই আমরা আপনাদের জন্য আজকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আইয়ামে বীজের রোজা ২০২৩। আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন আইয়ামে বীজের রোজা ২০২৩ এই বিষয়টি সম্পর্কে।

    আইয়ামে বীজে এই দুটি শব্দ সাধারণত আরবি একটি শব্দ আর এ দুটি শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ হলো আইয়ামে শব্দের অর্থ হলো দিবস আর বীজে শব্দের অর্থ শুভ্র বা সাদা। ইসলামের প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে সেটা নামাজ হোক আর রোজা হোক আর আইয়ামে বীজে রোজার ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। আরবি ক্যালেন্ডার অনুসারে হিজরী মাসের অর্থাৎ চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ এই সময়টি হল আইয়ামে বীজের সময়। কেননা এই তিন দিনের রাতের চাঁদ খুব বেশি আলোকসজ্জা থাকে।

    শবে বরাত কত তারিখে

    তাই আইয়ামে বীজের সময় বলতে বোঝায় আরবি চন্দ্র মাসের সবচেয়ে আলোক সজ্জিত তিন রাতের সাথে এই সময়টিকে। আর এই সময়ের রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রোজা। আমরা যারা মুসলমান রয়েছি, তারা অনেকেই এই রোজা সম্পর্কে অবগত। আইয়ামে বীজের রোজা রাখা সুন্নত। কোন ব্যক্তি জাতি এ রোজা পালন করে থাকে সে ব্যক্তির জন্য বিশেষ ফজিলত ও অশেষ সওয়াব রয়েছে।

    মহানবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক আরবি মাসের মধ্যভাগে তিনদিন আইয়ামে বীজের রোজা পালন করতেন এবং তিনি তার সাহাবী এবং তার উম্মতদের এ রোজার পালন করার জন্য যথেষ্ট তাগিদ দিয়েছেন। তবে এ রোজা পালন করার ক্ষেত্রে একটি মাসে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে আর তা হলো রমজান মাস এর ক্ষেত্রে। রমজান মাসে যেহেতু পূর্ণ এক মাস রোজা ফরজ তাই রমজানে আইয়ামে বীজের রোজা নেই। যে ব্যক্তি মহান আলো তালা সন্তুষ্টি লাভের আশায় প্রতিমাসে আইয়ামে বীজে রোজা পালন করে।

    সে ব্যক্তি সারা বছর নফল সিয়াম পালনের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখার দ্বারা পূর্ণ মাস রোজা রাখার সওয়াব লাভ হচ্ছে এবং এই পূর্ণ মাসের রোজায় ভাঙা বা বিনষ্ট হওয়ার প্রতিবন্ধকতাও নেই। আইয়ামে বীজের রোজা কোন ফরজ রোজা নয়। তাই কোন ব্যক্তি যদি এ রোজা থেকে নিজেকে বিরত রাখে সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের গুনা তার হবে না তবে কেউ যদি নিয়মিত এ রোজা রাখে অশেষ ছোয়াব রয়েছে।

    আরবি প্রতি মাসে তিনটি করে নফল রোযা রাখা অত্যন্ত ফযীলত পূর্ণ আমল। তা মাসের শুরুতে হোক, মাঝখানে হোক বা শেষে হোক। চাই লাগাতার রাখা হোক বা বিছিন্ন ভাবে রাখা হোক। যেহেতু আইয়ামে বীজের রোজা পুরোটা আরবি মাসের হিসাব অনুযায়ী একজন মুসলিম ব্যক্তিকে রাখতে হবে। তাই ইংরেজি ক্যালেন্ডার এর সাথে এর কোন মিল নেই কোন ব্যক্তি যদি এই রোজা পালন করতে চাই তাহলে আরবি মাস অনুসারে তাকে রোজা পালন করতে হবে। কারণ আরবি মাসের সাথে ইংরেজি মাসের কোন মিল নেই।

    তাই কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি বর্তমান আরবি রজব মাসের ২০২৩ সালের আইয়ামে বীজের রোজা পালন করতে চাই তাহলে তাকে অবশ্যই ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি রোজা পালন করতে হবে। যেহেতু নফল ইবাদত গুলোর মধ্যে রোজা অন্যতম তাই প্রতি মাসে আমরা নফল ইবাদত হিসেবে আইয়ামে বীজের রোজা পালন করে থাকবো।

    সূত্র : namazimuslim.com

    আইয়ামে বীজ এর রোজা

    আইয়ামে বীজের রোজা কাকে বলে? আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ, আইয়ামে বীযের সিয়ামের ফজিলত, এ মাসের আইয়ামে বীজের রোজা কবে রাখতে হবে?

    আইয়ামে বীজ এর রোজা – ফজিলত, বিধান ও মাসআলা

    16 May, 2021 Hasan Abdullahইসলাম

    Post updated on 21st February, 2023 at 10:03 pm

    রামাদানের রোজা ছাড়াও সারা বছর অনেকগুলো নফল রোজা রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা হচ্ছে আইয়ামে বীযের রোজা। প্রতি মাসে ৩ দিন আইয়ামে বিযের রোজা রাখলে তাতে পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। নবীজি (সা) সারা বছর এই রোজা রাখতেন। এর থেকে আইয়ামে বীজের ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আজকের এই পোস্টে আইয়ামে বীজের রোজা কবে, এর ফজিলত, বিধান ও মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব ইনশাআল্লাহ।

    এ মাসের আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ

    বাংলাদেশে ২০২৩ সালের তথা হিজরি ১৪৪৪ এর শাবান মাসের আইয়ামে বীজের ৩টি রোজা রাখতে হবে যথাক্রমে ৬, ৭ ও ৮ মার্চ ২০২৩ রোজ সোম, মঙ্গল ও বুধবার। অর্থাৎ রবিবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে সোমবার রোজা শুরু করতে হবে। এরপর মঙ্গল-বুধ সহ মোট ৩ দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে হবে।

    সারা বছরের সাহরি ইফতার ও নামাজের সময়সূচীর জন্য ব্যবহার করতে পারেন আমাদের ডেভেলপ করা Muslims Day মোবাইল App

    শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে হাদীসের ভাষায় বলা হয়েছে “লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান” (মধ্য শাবানের রাত্রি)। যা আমাদের দেশে শবে বরাত নামে পরিচিত। এই রাত্রিতে শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত সকল মুমিনকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান বা শবে বরাতের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় বিদআত-কুসংস্কার সম্পর্কে জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন।

    আইয়ামে বীজের রোজা কাকে বলে? আইয়ামে বীজের রোজা কবে?

    আইয়ামে বীজ আরবি দু’টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থঃ দিবসসমূহ। আর বীজ অর্থঃ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল।

    রমাদান ও রোজার মাসায়েল জানুন ও অংশ নিন ফিকহুস সিয়াম কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৩ এ

    প্রতি হিজরি মাস বা চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। কেননা এই তিনদিনের রাতের চাঁদ সবচেয়ে বেশি আলোকজ্জল বা শ্বেত-শুভ্র থাকে। আইয়ামে বীজ বলতে বুঝানো হয় চান্দ্র মাসের সবচেয়ে শুভ্র বা আলোকজ্জল তিনটি রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট দিনকে।

    আমরা জানি হিজরি মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই প্রতি মাসের আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের অনেকে না জানা বা না বুঝার কারণে আইয়ামে বীজের রোজা রাখেন কাগজে ছাপানো ক্যালেন্ডারে থাকা আনুমানিক হিজরি তারিখ হিসাবে। যা সঠিক বা ভুল উভয়টিই হতে পারে। অর্থাৎ ইংরেজি বছরের শুরুতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যে ক্যালেন্ডার প্রকাশিত হয় সেখানে হিজরি তারিখ থাকে অনুমান নির্ভর। প্রতিটি ক্যালেন্ডারেই উল্লেখ থাকে যে, হিজরি তারিখগুলো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই আমরা কাগজে ছাপানো ক্যালেন্ডারের উপর নির্ভর করে আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য আমাদের উচিত হিজরি মাসের চাঁদ ওঠার খবরের সাথে নিয়মিত আপডেট থাকা।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি মাসে চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে থাকে। আর আপনার জীবনকে আরেকটু সহজ করতে ব্যবহার করতে পারেন আমাদের ডেভেলপ করা Muslims Day Android App. এই অ্যাপে আমরা প্রতি মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর নোটিফিকেশন আকারে পাঠিয়ে থাকি। পাশাপাশি অ্যাপে নিয়মিত হিজরি তারিখ আপডেট করা হয়। আমাদের অ্যাপ থেকে নিয়মিত ভাবে সারা বছর আইয়ামে বীজের রোজার রিমাইন্ডার পাঠানো হয় নোটিফিকেশন আকারে। তাই আপনি যদি আইয়ামে বীদ এর রোজা রাখতে চান তাহলে মুসলিমস ডে অ্যাপটি আপনাকে সারা বছর ইনশাআল্লাহ রোজা রাখতে সহযোগিতা করবে। আর আইয়ামে বীজের রোজার সাহরি ও ইফতারের সময়ও আমাদের অ্যাপ থেকেই জানা যাবে।

    আইয়ামে বীজের রোজার বিধান

    আইয়্যামে বীজের রোজা আমাদের উপর ফরজ নয়। এটি নফল রোজা। অর্থাৎ আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে সওয়াব আছে, কিন্তু না রাখলে গুনাহ নাই। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের উচিত নফল ইবাদতেও মনযোগ দেয়া। কারণ ফরজ পালন করতে গিয়ে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি হলে বা কোনো ফরজ অনিচ্ছাকৃত ভাবে ছুটে গেলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের নফল আমলগুলোর মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করে দিতে পারেন। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে যে সকল নফল রোজা রয়েছে সেগুলো আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত।

    আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত

    প্রতি মাসে ৩ দিন বা আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তাতে সারা মাস রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়মিত ভাবে আইয়ামে বীজের ৩ দিন রোজা রাখা হচ্ছে সারা জীবন রোজা রাখার সমতূল্য। কেননা যে কোনো নেক আমল আল্লাহ তায়ালা ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকেন। আমরা যদি প্রতি মাসে নিয়মিত ভাবে ৩ দিন রোজা রাখি তাহলে ৩x১০=৩০ দিন রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। অর্থাৎ আমরা যদি প্রতি মাসেই ৩ দিন করে রোজা রাখি পুরো মাসটাই রোজা রাখার সওয়াব পাব। আর যত দিন বেঁচে আছি এভাবে রোজা রাখতে থাকলে আমরা ইনশাআল্লাহ সারা জীবন রোজা রাখার সওয়াব পাব। সুবহানাল্লাহ!

    অনেক আলেম বলে থাকেন, কোনো একটা আমল কবুল হওয়ার আলামত হচ্ছে সে আমলটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। আমরা যদি রমজানের রোজার পাশাপাশি অন্যান্য মাসেও কিছু নফল রোজা রাখতে পারি তাহলে সেটি হতে পারে আমাদের রমজানের রোজা কবুল হওয়ার আলামত। আর রমজানের সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ হচ্ছে রোজা। রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি তাক্বওয়া, ভয় ও আনুগত্য করা। রোজা এমন একটা ইবাদত যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই রাখা হয়। আর আল্লাহ নিজে এর প্রতিদান দিবেন। তাই রমজানের রোজার যে প্রশিক্ষণ আমরা নিয়েছি, সেটা সারা বছর কিছু কিছু করে প্র্যাক্টিস চলমান রাখা উচিত। রমজানে যেভাবে আমরা রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহমুখী হই। একই ভাবে আইয়ামে বীজের রোজার মাধ্যমেও প্রতি মাসে ৩টা দিন আমরা একান্তই আল্লাহর জন্য ৩টা রোজা রাখতে পারি।

    পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবারও নবীজি (সা) গুরুত্ব সহকারে নিয়মিত রোজা রাখতেন। এখানে ক্লিক করে জেনে নিন নবীজি (সা) কেন প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন?

    এত অল্প পরিশ্রমে আল্লাহ আমাদেরকে এত দিবেন! আমাদের মধ্যে কে এমন আছেন যিনি এই সুবর্ণ সুযোগকে হেলায় নষ্ট করবেন? আমার ধারণা এই লেখাটি পড়ার পর ইনশাআল্লাহ আপনি বাকি জীবন যতদিন সুস্থ্য আছেন নিয়মিত এই পুণ্যময় আমলটি করেই যাবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাসে ৩ দিন রোজা রাখার মাধ্যমে সারা মাস রোজা রাখার সওয়াব লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

    সূত্র : hellohasan.com

    আইয়ামে বিজের রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

    আইয়ামে বিজের রোজা রাখার গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ বছরজুড়ে সহজে রোজার সওয়াব পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম এ রোজা। এ ছাড়াও বছর...

    ধর্ম

    আইয়ামে বিজের রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

    ইসলাম ডেস্ক

    প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২

    আইয়ামে বিজের রোজা রাখার গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ বছরজুড়ে সহজে রোজার সওয়াব পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম এ রোজা। এ ছাড়াও বছর জুড়ে রোজার সওয়াব পাওয়ার আরও আমল আছে। তবে তুলনামূলক ভাবে সহজে ও সারা বছর রোজার সওয়াব মেলে এ রোজায়। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত। কিন্তু তা কীভাবে?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে আব্দুল্লাহ! তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা হয়ে যায়।’

    বিজ্ঞাপন

    প্রতি চন্দ্র মাসে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। দিনগুলো হলো আইয়ামুল বিজ তথা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এ রোজাগুলো ছাড়তেন না। তিনি সব সময় আইয়ামে বিজের রোজা রাখতেন। এমনকি সফরেও। তবে রোজাগুলো ফজিলতপূর্ণ হলেও তিনি উম্মতের জন্য এ রোজাকে বাধ্যতামূলক করেননি। হাদিসে পাকে এসেছে-

     ‘তুমি যদি (প্রতি) মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাও, তাহলে তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরোতম দিনে রোজা রাখবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ)

    বিজ্ঞাপন

    আইয়ামে বিজের রোজার পুরস্কার

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আন প্রতিদিন রোজা রাখতেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রতিদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেন এবং উপদেশ দেন এভাবে-

    ‘হে আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন রোজা রাখো এবং সারা রাত নামাজ আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন- এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) রোজা রাখো আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) নামাজ আদায় করো আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হাক রয়েছে, তোমার চোখের হাক রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক আছে, তোমার মেহমানের হাক আছে। (বরং) তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা পালন হয়ে যায়।’ (বুখারি)

    বিজ্ঞাপন

    বছরজুড়ে রোজা পালন

    আইয়ামে বিজে রোজা রাখার বিষয়ে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। এবং বলেছেন, ‘আইয়ামে বিজের রোজা রাখা সারা বছরই রোজা রাখার সমতুল্য।’

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখবে-এটা তোমার জন্য ভালো। কেননা তোমার একটি সৎকাজ দশগুণ সমান; ফলে তুমি যেন পুরো বছরই রোজা রাখছো।’ (বুখারি)

    বিজ্ঞাপন

    হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখল; সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ অতঃপর এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নাজিল করেন- ‘যে একটি নেকি নিয়ে আসে তার জন্য রয়েছে তার ১০গুণ।’ অতএব একদিন ১০ দিনের সমান।’ (তিরমিজি)

    হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিজের রোজার ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারা বছর রোজা রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)

    আইয়ামে বিজের রোজা সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে যে-

    বিজ্ঞাপন

    হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। এরপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে যায়। তাই এই তিন দিনকে আইয়্যামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।

    উল্লেখ্য, চলতি জমাদিউস সানি মাসের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী আইয়ামে বিজের রোজা রাখার নির্ধারিত দিন হলো- ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ মোতাবেক ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি ২০২২। যারা এ মাসের আইয়ামের বিজের রোজা রাখবেন; তাদেরকে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত (আজ) রাত সাহরি খেতে হবে।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আইয়ামে বিজের রোজা পালন করা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলটি পালন করে বছরজুড়ে রোজার সওয়াব পাওয়া চেষ্টা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ তিনদিন আইয়ামে বিজের রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    এমএমএস/এএসএম

    ইসলাম হাদিস উপদেশ রোজা ইবাদত

    পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।

    আরও পড়ুন  

    নবিজী (সা.) যে ৪ আমল কখনো ছাড়তেন না

    ইসলাম

    যে ৪ আচরণ ক্বলবের জন্য বিষের মতো ক্ষতিকর

    ইসলাম

    ক্ষমা ও নূরের জ্যোতি মিলবে যে তাওবায়

    ইসলাম

    সূত্র : www.jagonews24.com

    আপনি উত্তর বা আরো দেখতে চান?
    Mohammed 24 day ago
    4

    বন্ধুরা, কেউ কি উত্তর জানেন?

    উত্তর দিতে ক্লিক করুন