if you want to remove an article from website contact us from top.

    বিশ্ব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান মূল্যায়ন করুন

    Mohammed

    বন্ধুরা, কেউ কি উত্তর জানেন?

    এই সাইট থেকে বিশ্ব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান মূল্যায়ন করুন পান।

    মিশরীয় সভ্যতা

    মিশরীয় সভ্যতা

    উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

    "প্রাচীন মিশরীয়" শিরোনামকে এখানে পুনর্নির্দেশ করা হয়েছে। ভাষার জন্য মিশরীয় ভাষা দেখুন।

    প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সর্বাধিক পরিচিত প্রতীকগুলির অন্যতম গিজার পিরামিড।

    মিশরের ইতিহাস

    ধারাবাহিকের একটি অংশ

    প্রাগৈতিহাসিক মিশর খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দের পূর্ববর্তী

    প্রাচীন মিশর

    আদি রাজবংশীয় যুগ খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০-২৬৮৬ অব্দ

    প্রাচীন রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ২৬৮৬-২১৮১ অব্দ

    ১ম অন্তর্বর্তী যুগ খ্রিস্টপূর্ব ২১৮১-২০৫৫ অব্দ

    মধ্য রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ২০৫৫-১৬৫০ অব্দ

    ২য় অন্তর্বর্তী যুগ খ্রিস্টপূর্ব ১৬৫০-১৫৫০ অব্দ

    নতুন রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-১০৬৯ অব্দ

    ৩য় অন্তর্বর্তী যুগ খ্রিস্টপূর্ব ১০৬৯-৬৬৪ অব্দ

    অন্তিম যুগ খ্রিস্টপূর্ব ৬৬৪-৩৩২ অব্দ

    ধ্রুপদি যুগ

    ম্যাসিডনিয়ান ও টলেমিক মিশর খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২-৩০ অব্দ

    রোমান ও বাইজানটাইন মিশর খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ-৬৪১ খ্রিস্টাব্দ

    সাসানীয় মিশর ৬১৯-৬২৯

    মধ্যযুগ

    ইসলামীয় মিশর ৬৪১-৯৬৯

    ফাতেমীয় মিশর ৯৬৯-১১৭১

    আইয়ুবীয় মিশর 1171–1250

    মামলুক মিশর ১২৫০-১৫১৭

    প্রাক-আধুনিক

    উসমানীয় মিশর ১৫১৭-১৮৬৭

    ফরাসি-অধীনস্থ মিশর ১৭৯৮-১৮০১

    মুহাম্মদ আলির অধীনে মিশর ১৮০৫-১৮৮২

    মিশরের কেডেওয়েট ১৮৬৭-১৯১৪

    আধুনিক মিশর

    ব্রিটিশ-অধীনস্থ মিশর ১৮৮২-১৯২২

    মিশর সালতানাত ১৯১৪-১৯২২

    মিশর রাজ্য ১৯২২-১৯৫৩

    প্রজাতন্ত্র ১৯৫৩-বর্তমান

    দেস

    প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশ

    রাজবংশ-পূর্ব যুগপ্রোটো-রাজবংশীয়

    আদি যুগ প্রাচীন রাজ্য

    প্রথম অন্তর্বর্তী যুগ

    মধ্যকালীন রাজবংশ

    দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী যুগ

    নতুন রাজ্য

    তৃতীয় অন্তর্বর্তী যুগ

    প্রথম পারস্য যুগ পরবর্তী যুগ দ্বিতীয় পারস্য যুগ টলেমিক যুগ দেস

    প্রাচীন মিশরের মানচিত্র, রাজবংশীয় যুগের (খ্রিষ্টপূর্ব ৩১৫০-৩০ অব্দ) প্রধান শহর ও দ্রষ্টব্যস্থলগুলি এখানে প্রদর্শিত হয়েছে।

    মিশরীয় সভ্যতা উত্তর আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন সভ্যতা। নীল নদের নিম্নভূমি অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। বর্তমানে অঞ্চলটি মিশর রাষ্ট্রের অধিগত। খ্রিষ্টপূর্ব ৩১৫০ অব্দ নাগাদ[১] প্রথম ফারাওয়ের অধীনে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজনৈতিক একীকরণের মাধ্যমে এই সভ্যতা এক সুসংহত রূপ লাভ করে। এরপর তিন সহস্রাব্দ কাল ধরে চলে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিকাশপর্ব।[২] প্রাচীন মিশরের ইতিহাস একাধিক স্থায়ী -এর ইতিহাসের একটি সুশৃঙ্খলিত ধারা। মধ্যে মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর্ব দেখা দিয়েছিল। এই পর্বগুলি অন্তর্বর্তী পর্ব নামে পরিচিত। নতুন রাজ্যের সময়কাল এই সভ্যতার চূড়ান্ত বিকাশপর্ব। এর পরই ধীরে ধীরে মিশরীয় সভ্যতার পতন আরম্ভ হয়। প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের পর্বে একাধিক বৈদেশিক শক্তি মিশর অধিকার করে নেয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩১ অব্দে আদি রোমান সাম্রাজ্য মিশর অধিকার করে এই দেশকে একটি রোমান প্রদেশে পরিণত করলে ফারাওদের শাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।[৩]

    প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সাফল্যের আংশিক উৎস নিহিত রয়েছে নীল নদ উপত্যকার পরিস্থিতির সঙ্গে এই সভ্যতার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার মধ্যে। সুপরিচিত বন্যা ও উর্বর উপত্যকার নিয়ন্ত্রিত সেচব্যবস্থার ফলস্রুতি ছিল উদ্বৃত্ত ফসল। যা থেকে এই অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। এই সম্পদের সাহায্যেই প্রশাসনের সহায়তায় উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী মরু অঞ্চলে খনিজ পদার্থের উত্তোলন শুরু হয়, একটি স্বাধীন লিখন পদ্ধতির আদি বিকাশ সম্ভব হয়, স্থাপনা ও কৃষিজ পণ্যের সুসংহত ব্যবহার শুরু হয়, পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং সামরিক বাহিনী বহিঃশত্রুদের পরাজিত করে মিশরীয় প্রাধান্য স্থাপন করে। এই সকল কার্যে প্রেরণা জোগানো ও একে সুসংহতরূপে সাধন করা ছিল উচ্চবিত্ত লিপিকার, ধর্মনেতা ও ফারাওদের অধীনস্থ প্রশাসকবৃন্দের আমলাতন্ত্রের নিদর্শন। এঁরা সমগ্র মিশরের জনগণকে একটি বহুব্যাপী ধর্মবিশ্বাসের বন্ধনে আবদ্ধ করে তাদের সহযোগিতা ও একতাকে সুনিশ্চিত করেছিলেন।[৪][৫]

    প্রাচীন মিশরীয়দের নানান কৃতিত্বগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য খনি থেকে অট্টালিকাদি নির্মাণের জন্য পাথর খনন, সমীক্ষণ ও নির্মাণ কৌশলের দক্ষতা। এরই ফলস্রুতি ঐতিহাসিক মিশরীয় পিরামিডসমূহ, মন্দির, ওবেলিস্কসমূহ, মিশরীয় গণিত ব্যবস্থা, একটি ব্যবহারিক ও কার্যকরী চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদন কৌশল, প্রথম জাহাজ নির্মাণ,[৬] মিশরীয় চীনামাটি ও কাঁচশিল্পবিদ্যা, একটি নতুন ধারার সাহিত্য এবং বিশ্বের ইতিহাসের প্রাচীনতম শান্তিচুক্তি ( হিট্টাইটদের সাথে)।[৭] প্রাচীন মিশর এক দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকারকে পিছনে ফেলে যায়। প্রাচীন মিশরের শিল্পকলা ও সাহিত্যের ব্যাপক অনুকৃতি লক্ষিত হয়। বিশ্বের দূরতম প্রান্তে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এর পুরাকীর্তিগুলি। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রাচীন মিশরের পুরাকীর্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ পর্যটক ও লেখকদের কল্পনাশক্তিকে অনুপ্রাণীত করেছে। আধুনিক যুগের প্রথম ভাগে পুরাকীর্তি ও খননকার্যের প্রতি নতুন করে মানুষের আগ্রহ জেগে উঠলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিশরের সভ্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু হয়। এর ফলে মিশরীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারগুলি মিশর ও বিশ্ববাসীর সম্মুখে নতুন রূপে উপস্থাপিত হয়।[৮]

    ইতিহাস[সম্পাদনা]

    মূল নিবন্ধসমূহ: প্রাচীন মিশরের ইতিহাস, মিশরের ইতিহাস ও মিশরের জনসংখ্যার ইতিহাস

    সুপ্রাচীনকাল থেকেই নীল নদ মিশরের জীবনযাত্রায় মূল ভূমিকা পালন করছে।[৯] নীল নদের উর্বর প্লাবন সমভূমি এই অঞ্চলের অধিবাসীদের স্থায়ী কৃষি অর্থনীতি ও একটি জটিল ও কেন্দ্রীভূত সমাজ গঠনে সাহায্য করে যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১০] আধুনিক শিকারি-সংগ্রাহক মানুষেরা মধ্য প্লেইস্টোসিন যুগের শেষ ভাগে অর্থাৎ বারো লক্ষ বছর আগে এই অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিল। পরবর্তী প্যালিওলিথিক যুগ থেকেই উত্তর আফ্রিকার শুষ্ক জলবায়ু আরও উষ্ণ ও শুষ্ক হতে শুরু করে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষেরা নীল নদ উপত্যকায় ঘন জনবসতি গড়ে তুলতে বাধ্য হয়।

    পূর্ব-রাজবংশীয় মিশর[সম্পাদনা]

    প্রাকসম্রাজ্য এবং আদি সম্রাজ্যের কালে মিশরের জলবায়ু বর্তমানের চেয়ে কম শুষ্ক ছিল। মিশরের বড় অংশ ছিল সাভানা এবং এসকল এলাকায় ক্ষুরযুক্ত পশুপালের বিচরণ ছিল। উদ্ভিদ এবং প্রাণীতে নীল অঞ্চল সমৃদ্ধ ছিল এবং বিপুল পরিমাণ জলজ পাখিও এখানে পাওয়া যেত। এই পরিবেশে শিকারী প্রাণীদের জীবনযাপন ছিল সাধারণ এবং অনেক প্রাণী এই সময়ে পোষ মানানো হয়েছে ।[১১]

    সূত্র : bn.wikipedia.org

    মিশরীয় সভ্যতা

    মিশরীয় সভ্যতা : আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে বর্তমানে যে দেশটির নাম ইজিপ্ট, সেই দেশেরই প্রাচীন নাম মিশর। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০

    বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

    মিশরীয় সভ্যতা | সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান | লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার

    Bcs PreparationMay 27, 2021 1,255

    মিশরীয় সভ্যতা : আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে বর্তমানে যে দেশটির নাম ইজিপ্ট, সেই দেশেরই প্রাচীন নাম মিশর। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ অব্দ পর্যন্ত নীল নদের অববাহিকায় একটি সমৃদ্ধ জনপদের উদ্ভব হয়। এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে। এরপর ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয়। ঐ সময় থেকে মিশরের ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়। একই সময়ে নারমার বা মেনেস হন একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরােহিত। তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন। এরপর থেকে ফারাওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেযােগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়।ভৌগােলিক অবস্থান : তিনটি মহাদেশ দ্বারা ঘিরে থাকা মিশরের ভৌগােলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরােপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে লােহিত সাগর, পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি,দক্ষিণে সুদান ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ। এর মােট আয়তন প্রায় চার লক্ষ বর্গমাইল।আরো পড়ুন : Current Affairs May 2021 PDF | কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মে ২০২১ পিডিএফ

    Related Articles

    মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রবাসী লেখক-সাংবাদিকবৃন্দের সাহিত্য ও প্রতিবেদন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নোত্তর।

    April 1, 2022

    ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে যেকোনো চাকুরী পরীক্ষায় আসার মত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

    March 7, 2022

    মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস

    August 16, 2021

    মুঘল শাসন এবং সুবাদারি ও নবাবি আমল

    August 15, 2021

    সময়কাল : মিশরীয় সভ্যতা ২৫০০ বছরেরও বেশি সময়ব্যাপী স্থায়ী হয়েছিল। প্রাচীন মিশরের নিরবচ্ছিন্ন ও দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা হয় ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। বিশেষ করে নবােপলীয় যুগে। তবে মিশরীয় সভ্যতার গােড়াপত্তন হয় মেনেসের নেতৃত্বে, যা প্রায় তিন হাজার বছর ধরে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতকে লিবিয়ার এক বর্বর জাতি ফারাওদের সিংহাসন দখল করে নেয়। ৬৭০-৬৬২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অ্যাসিরীয়রা মিশরে আধিপত্য বিস্তার করে। ৫২৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পারস্য মিশর দখল করে নিলে প্রাচীন মিশরের সভ্যতার সূর্য অস্তমিত হয়।রাষ্ট্র ও সমাজ : প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতকগুলাে ছােট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। এগুলােকে ‘নােম’ বলা হতাে। মিশরের প্রথম রাজা বা ফারাও (মেনেস বা নারমার) সমগ্র মিশরকে খ্রিষ্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে ঐক্যবদ্ধ করে একটি রাজ্য গড়ে তােলেন, যার রাজধানী ছিল দক্ষিণ মিশরের মেফিসে। তখন থেকে মিশরে ঐক্যবদ্ধ রাজ্য ও রাজবংশের উদ্ভব । মিশরীয় ‘পের-ও’ শব্দ থেকে ফারাও শব্দের জন্ম। ফারাওরা ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। তারা নিজেদের সূর্য দেবতার বংশধর মনে করত। ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক।

    অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে হতাে উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও। পেশার ওপর ভিত্তি করে মিশরীয়দের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যেমন- রাজপরিবার, পুরােহিত, অভিজাত, লিপিকার, ব্যবসায়ী, শিল্পী এবং কৃষক ও ভূমিদাস শ্রেণি।। মিশরের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষিনির্ভর। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল গম, যব, তুলা, পেঁয়াজ, পিচফল ইত্যাদি।

    ব্যবসা-বাণিজ্যেও মিশর ছিল অগ্রগামী। মিশরে উৎপাদিত গম, লিনেন কাপড় ও মাটির পাত্র ক্রিট দ্বীপ, ফিনিশিয়া, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় রপ্তানি হতাে। বিভিন্ন দেশ থেকে মিশরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতির দাঁত, কাঠ ইত্যাদি আমদানি করত।

    নীল নদ : মিশরের নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে নদটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে এসে পড়েছে। ইতিহাসের জনক হেরােডােটাস যথার্থই বলেছেন- “মিশর নীল নদের দান’। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতাে। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীল নদে বন্যা হতাে। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হতাে। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতাে নানা ধরনের ফসল।

    সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান :

    প্রাচীন সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ধর্মীয় চিন্তা, শিল্প, ভাস্কর্য, লিখন পদ্ধতি,কাগজের আবিষ্কার, জ্ঞান বিজ্ঞানচর্চা—সবকিছুই তাদের অবদানে সমৃদ্ধ। মিশরীয়দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, তাদের জীবন ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

    মিশরীয়দের ধর্মবিশ্বাস : সম্ভবত প্রাচীন মিশরীয়দের মতাে অন্য কোনাে জাতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে এতটা ধর্মীয় নিয়ম-কানুন অনুশাসন দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। সে কারণে মানবসভ্যতার অনেক ধ্যানধারণা, রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠানের জন্ম প্রাচীন মিশরে । তারা জড়বস্তুর পূজা করত, মূর্তি পূজা করত, আবার জীবজন্তুর পূজাও করত। বিভিন্ন সময়ে তাদের ধর্মবিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটেছে।

    মিশরীয়দের ধারণা ছিল- সূর্যদেবতা ‘রে’ বা ‘আমন রে’ এবং প্রাকৃতিক শক্তি, শস্য ও নীল নদের দেবতা ‘ওসিরিস’ মিলিতভাবে সমগ্র পৃথিবী পরিচালিত করেন। তবে, তাদের জীবনে সূর্যদেবতা ‘রে’- এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। মিশরীয়রা মনে করত মৃত ব্যক্তি আবার একদিন বেঁচে উঠবে। সে কারণে দেহকে তাজা রাখার জন্য তারা মমি করে রাখত। এই চিন্তা থেকে মমিকে রক্ষার জন্য তারা পিরামিড তৈরি করেছিল। ফারাওরা স্রষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে দেশ শাসন করত। তারা ছিল প্রধান পুরােহিত এবং অন্যান্য পুরােহিতকেও তারা নিয়ােগ করত।

    আরো পড়ুন : ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা | ইতিহাসের উপাদান | ইতিহাসের প্রকারভেদশিল্প : মিশরীয়দের চিত্রকলা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ । অন্যান্য দেশের মতাে চিত্রশিল্পও গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। তারা সমাধি আর মন্দিরের দেয়াল সাজাতে গিয়ে চিত্রশিল্পের সূচনা করে। তাদের প্রিয় রং ছিল সাদা-কালাে। সমাধি, পিরামিড, মন্দির, প্রাসাদ, প্রমােদ কানন, সাধারণ ঘর-বাড়ির দেয়ালে মিশরীয় চিত্রশিল্পীরা অসাধারণ ছবি এঁকেছেন।

    সেসব ছবির মধ্যে সমসাময়িক মিশরের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের কাহিনি ফুটে উঠেছে। কারুশিল্পেও প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীরা অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আসবাবপত্র, মৃৎপাত্র, সােনা, রুপা, মূল্যবান পাথরে খচিত তৈজসপত্র, অলঙ্কার, মমির মুখােশ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র, হাতির দাঁত ও ধাতুর দ্রব্যাদি মিশরীয় কারু শিল্পের দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।

    সূত্র : www.bcspreparation.net

    মানব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান আলােচনা কর

    মিশরীয় সভ্যতা বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা। মিশরের নীল নদের অববাহিকায় এই সমৃদ্ধ সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। মানবজাতির ক্রমবিবর্তন, উন্নতি ও উৎকর্ষতার এত বড় অবদ

    মানব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান আলােচনা কর

    এপ্রিল ২০, ২০২২

    প্রশ্নঃ মানব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান আলােচনা কর।

    অথবা, প্ৰাৰ্চীন সভ্যতার ইতিহাসে মিশরীয়দের কৃতিত্ব মূল্যায়ণ কর।অথবা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে প্রাচীন মিশরীয়দের অবদান আলােচনা কর।ভূমিকাঃ মিশরীয় সভ্যতা বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা। মিশরের নীল নদের অববাহিকায় এই সমৃদ্ধ সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। মানবজাতির ক্রমবিবর্তন, উন্নতি ও উৎকর্ষতার এত বড় অবদান মিশরীয় সভ্যতার মতাে আর কোনাে সভ্যতা রাখতে পারেনি। বিশ্বের অন্যান্য সভ্যতার পথিকৃত হিসেবে মিশরীয় সভ্যতা এক অনন্য সাধারণ গুরুত্বের দাবিদার। তারা শিক্ষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।মিশরীয় সভ্যতার অবদানঃ মিশরীয় সভ্যতা মানব সভ্যতার ইতিহাসে অনন্য অবদান রেখেছে। নিম্নে মিশরীয় সভ্যতার অবদানসমূহ তুলে ধরা হলাে-(১) মিশরীয় লিখন পদ্ধতিঃ বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম এক ধরনের লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার করে ইহা চিত্রলিখন রীতি বা Hieroglyphic নামে পরিচিত। গ্রিক ভাষায় এর অর্থ পবিত্র লিখন অথবা খােদাই কাজ। এ পদ্ধতিতে চব্বিশটি চিহ্ন ছিল এবং প্রতিটি চিহ্ন একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করতাে। প্রতিটি চিহ্ন পাশাপাশি খােদিত করে একটি শব্দ ও বাক্য প্রকাশ করা হতাে।

    (২) সাহিত্য চর্চাঃ প্রাচীন মিশরীয়গণ সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রেও অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে গেছেন। তাদের সাহিত্য চর্চা ছিল দর্শন ও ধর্মভিত্তিক। ‘পিরামিড টেক্সটসম্ব’, ‘মেমফিস ড্রামাম্ব, ‘রয়্যাল সান হিমম্ব’, ‘মৃতদের পুস্তকম্ব’, ‘আতেনের হিম’ (ধর্মসঙ্গীত) প্রভৃতি ছাড়াও তারা ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্যের চর্চা করতাে। কাব্য সাহিত্যের ক্ষেত্রে ‘পয়েমস অব পেনতুরম্ব’ এবং প্রবচন সাহিত্যের ক্ষেত্রে ‘প্রিসেক্ট অব টাজ্জটেপম্ব’ বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য।

    (৩) বিজ্ঞানচর্চাঃ বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখায় প্রাচীন মিশরীয়দের মৌলিক অবদান লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে অংক ও জ্যোতির্বিদ্যায় তারাই সর্বপ্রথম অংক ও জ্যামিতির উদ্ভাবন এবং যােগ, বিয়ােগ, ভাগ ও দশমিক প্রথার প্রবর্তন করে।(৪) ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানঃ মিশরীয় সভ্যতায় সমগ্র জীবন ব্যবস্থায় ধর্মীয় প্রভাব বিশেষ লক্ষণীয়। মিশরীয়দের ধর্মীয় চিন্তায় টোটেম বিশ্বাস এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। সে কারণে ধর্ম ছিল বৈচিত্র্যময়। আদিম বহু ঈশ্বরবাদ থেকে একেশ্বরবাদ ও মিশরের ধর্মচিন্তায় লক্ষ্য করা যায়। তারা পরজন্মে বিশ্বাস করতাে। সেজন্য মৃত ব্যক্তির প্রয়ােজনীয় জিনিসগুলাে তার সঙ্গে দিয়ে দেয়া হতাে। তাদের ধারণা ছিল মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে এগুলাে কাজে লাগবে বা প্রয়ােজন হবে।

    (৫) মিশরীয় স্থাপত্যঃ মিশরীয়গণ ছিলেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত তাদের নির্মিত পিরামিডগুলাে আজো দর্শকদের বিস্ময়ে বিমুগ্ধ করে। মিশরের অক্ষত মমিগুলােও আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীদের প্রতি বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জস্বরূপ। স্থাপত্য শিল্পের কলাকৌশল হিসেবে স্তম্ভ বেষ্টিত প্রাসাদ, বহুতল বিশিষ্ট অট্টালিকা সবকিছুই মিশরে বিকাশ লাভ করে।

    (৬) ভাস্কর্যঃ ভাস্কর্য শিল্পেও প্রাচীন মিশরীয়গণ তাদের মৌলিকতা ও অপূর্ব বৈশিষ্ট্য রেখে গিয়েছেন। মাহাত্ম্য ও বিক্রম প্রকাশের জন্য ফেরাউনদের প্রতিকৃতি যেমন আবু সিমবেলে তৃতীয় রামাসিসের মূর্তি, বৃহদাকারে খােদিত হত। কখনাে কখনাে পঁচাত্তর থেকে নব্বই ফুট দীর্ঘ হতাে এই সমস্ত ভাস্কর্য নিদর্শন।পরিশেষঃ পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাচীন সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচীন সভ্যতার অগ্রগতিতে মিশরীয় সভ্যতা যে বিস্ময়কর অবদান রেখেছে তা অভূতপূর্ব। তারা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, ধর্ম, দর্শন, সংস্কৃতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মৌলিক অবদান রেখেছে। প্রাচীন মিশরীয়রাই স্থাপত্য শিল্পকলার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে। মূলত মিশরীয়রাই ছিল প্রাচীন সভ্যতার স্তম্ভ।

    Tags: সমাজবিজ্ঞান নবীনতর

    প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মীয় জীবন আলােচনা কর

    পূর্বতন

    হাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের কারণ ও ফলাফল আলােচনা কর

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0 মন্তব্যসমূহ

    সূত্র : www.banglalecturesheet.xyz

    আপনি উত্তর বা আরো দেখতে চান?
    Mohammed 20 day ago
    4

    বন্ধুরা, কেউ কি উত্তর জানেন?

    উত্তর দিতে ক্লিক করুন